সেহরির গুরুত্ব, সুন্নাত, আরবি দোয়া ও জরুরি মাসআলাসমূহ
১. সেহরি খাওয়ার ফজিলত ও গুরুত্ব (হাদিস)
ইসলাম ধর্মে সেহরি খাওয়ার ওপর বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এটি কেবল শারীরিক শক্তির উৎস নয়, বরং অত্যন্ত বরকতময় একটি ইবাদত। হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন: "তোমরা সেহরি খাও, কারণ সেহরিতে বরকত রয়েছে।" (সহিহ বুখারি ও মুসলিম)। মুসলিম ও আহলে কিতাবের রোজার মূল পার্থক্যই হলো সেহরি খাওয়া। শেষ রাতে সামান্য খাবার বা এক ঘুঁট পানি হলেও সেহরি গ্রহণ করা সুন্নাত।
২. সেহরির খাঁটি আরবি নিয়ত ও উচ্চারণ
نَوَيْتُ أَنْ أَصُومَ غَدًا مِّنْ شَهْرِ رَمَضَانَ الْمُبَارَكِ فَرْضًا لَكَ فَتَقَبَّلْ مِنِّي إِنَّكَ أَنْتَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ
উচ্চারণ: নাওয়াইতু আন আছুমা গাদাম মিন শাহরি রমাদানাল মুবারাকি ফার্দাল লাকা ফাতাকাব্বাল মিন্নি ইন্নাকাস সামিউল আলিম।
অর্থ: হে আল্লাহ! আমি আগামীকালের পবিত্র রমজান মাসের ফরজ রোজা রাখার নিয়ত করলাম। আপনি আমার পক্ষ থেকে তা কবুল করুন, নিশ্চয়ই আপনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞানী।
৩. সেহরি সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ মাসআলা ও বিধান
- মাসআলা ১: সেহরির নির্দিষ্ট সময় শেষ হওয়ার পর (সুবহে সাদিক হওয়ার পর) জেনেশুনে খাবার বা পানি পান করলে রোজা ভঙ্গ হয়ে যাবে এবং কাজা আদায় করতে হবে।
- মাসআলা ২: সেহরি খাওয়ার সময় আজান শুরু হলে এবং মুখে খাবার থাকলে তা ফেলে দেওয়া ওয়াজিব; গিলে ফেললে রোজা নষ্ট হতে পারে।
- মাসআলা ৩: ঘড়ি বা টাইমে ভুল ভেবে সুবহে সাদিক হওয়ার পরেও যদি কেউ সেহরি খান, তবে সতর্কতা হিসেবে পরবর্তীতে ঐ রোজার কাজা রাখা উচিত।
- মাসআলা ৪: স্বপ্নদোষ বা অপবিত্র (গোসল ফরজ থাকা) অবস্থায় সেহরি খাওয়া সম্পূর্ণ জায়েজ রয়েছে, তবে ফজর ওয়াক্তের আগেই পবিত্রতা অর্জন করা আবশ্যক।
- মাসআলা ৫: শেষ রাতে ঘুম থেকে উঠতে না পারলে বা সেহরি খেতে না পারলেও শুধু নিয়ত দ্বারা রোজা আদায় হয়ে যাবে।